মাস দুয়েকের মধ্যে সেট টপ বক্স বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হবে
ভারতীয় জিবাংলা ও মার্কিন অনলাইন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নেটফ্লিক্সের মতো বিদেশী চ্যানেলও বাংলাদেশে সম্প্রচারে বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ (বিএস-১) ব্যবহার করবে। খরচ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেবে তারা। আর এর মাধ্যমেই বিএস-১ এর মাধ্যমে সি ব্যান্ডের সবগুলো ট্রান্সপন্ডার বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে যাবে। সেগুলো ছাড়াও এই মুহূর্তে এই স্যাটেলাইট থেকে বছরে ১২৫ কোটি টাকা আয় হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ডিজটাল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো ক্যাবল অপারেটরকে তাদের সব গ্রাহকের কাছে সেট টপ বক্স (এসটিবি) বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যেই বিটিআরসি একটি রেগুলেশন করেছে, যার মাধ্যমে বিদেশী স্যাটেলাইট ব্যবহারে সম্প্রচার করলে চার্জ বেশি হবে। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে চার্জ কম পড়বে। অর্থাৎ ভাড়া অনেক কম হবে। সুতরাং আমরা আশা করছি, এই রেগুলেশনের ফলে বিদেশী যে চ্যানেলগুলো বিদেশী স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসতো সেই চ্যানেলগুলো আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে আসবে।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট (বিএস-১) কেবল দেশের সবগুলো বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলকেই সম্প্রচার সুবিধা দিচ্ছে না, পাশাপাশি বিশেষত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ আগ্রহের কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-র সম্প্রচার সুবিধা গত ১০ এপ্রিল থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে। থাই উপগ্রহ সিরিজ থাইকোম-৬ এর সহযোগিতায় বিএস-১ বিটিভির উপগ্রহ ভিত্তিক শাখা বিটিভি ওয়ার্ল্ডের মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।
ড. শাহজাহান মাহমুদ আরো জানান, কেইউ ট্রান্সপন্ডার ও সি ট্রান্সপন্ডার মিলে প্রায় ৪০ শতাংশ ট্রান্সপন্ডারই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ৪০টি দ্বিপে টেলিমেডিসিন, টেলি এড্যুকেশন এবং ইন্টারনেট সেবা দিয়েছি। সি ব্যান্ডে ১৪টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এর মধ্যে ৩৫টি টিভি সংযুক্ত হয়েছে এবং সম্প্রচারের অপেক্ষায় থাকা ৭টি টিভিও আবেদন করেছে। বিদেশী চ্যানেলগুলো বিস-১ স্যাটেলাইটের অধীনে এলে সি ব্যান্ডে কোনো ট্র্যান্সপন্ডার বাকি থাকবে না। এছাড়াও, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও সুরক্ষিত ব্যাংকিং পরিষেবা নিশ্চিত করতে সবগুলো ব্যাংকের এটিএ-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্যও। কমমূল্য প্রস্তাবের ফলে ইতোমধ্যেই বিদেশীদের বায়না ফিরিয়ে দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে নজর দিয়েছে বিসিএসসিএল।